ছবির ক্যাপশন: এনসিপি থেকে নারী নেতাদের পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ পর্যায় থেকে একাধিক নারী নেতার পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দলটির অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নারী নেতৃত্বের অবমূল্যায়ন এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার মতো বিষয়গুলো পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
কেন পদত্যাগ করছেন নেতারা?
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন তিনি। তার মতে, আদর্শগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই জামায়াত এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। এর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীন। সে সময় ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছিলেন, অন্যদিকে তাজনূভা জাবীন জোট গঠনের প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আপত্তি জানিয়েছিলেন।
দলের অভ্যন্তরীণ সংকট
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনসিপির অভ্যন্তরীণ কমিটি পুনর্গঠনে কাউন্সিল এড়িয়ে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরে এই মতপার্থক্য চললেও শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি। তাদের মতে, দলে নতুন কর্মীর সংযুক্তি বা কারো পদত্যাগ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তীব্র হচ্ছে অস্বস্তি
নির্বাচনের মাত্র নয় মাসের মাথায় সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ এনসিপির ভেতরে অস্থিরতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে গিয়ে এনসিপি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ফেলছে কিনা, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। দলটির ৩০ জন নেতা এর আগে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে এই নারী নেতাদের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আদর্শিক সংকটের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এল।