ছবির ক্যাপশন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক শিক্ষা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনীতিবিদরা এর থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সে সময় প্রায় ৩৪ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
বাকশাল ও একদলীয় শাসনের সমালোচনা
জামায়াত আমির ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে গণতন্ত্রের সাথে উপহাস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে নিজেদের আজীবন ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা করেছিল। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, শাসকগোষ্ঠী জনগণের আস্থা হারিয়েছিল।
সতর্কবার্তা
নিজের স্মৃতিচারণ ও তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে জামায়াত আমির বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, যারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হন, তাদের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। জনগণের দাবি ও অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি বলে তিনি উল্লেখ করেন।