ছবির ক্যাপশন: যোগ্য কর্মীর অভাবে শিল্পে সংকট কাটছে না, অন্যদিকে নিম্নস্তরের চাকরিতে বাড়ছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে সনদধারীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। একদিকে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ প্রার্থীর অভাব, অন্যদিকে সাধারণ কাজের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতা—এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে পড়েছে দেশের কর্মসংস্থান খাত। সোর্স প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উচ্চশিক্ষা শেষেও কাজের উপযোগী দক্ষতার ঘাটতি থাকায় বেকার দিন কাটাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক তরুণ।
দক্ষতার ঘাটতি ও শিল্প খাতের অভিজ্ঞতা
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট গ্র্যাজুয়েটের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁদের বড় অংশ মানবিক, সমাজবিজ্ঞান কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে শিল্পমালিকদের অভিযোগ, কর্মবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এসব প্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকছে।
বিশেষায়িত খাতগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকাট। প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘মার্কোপোলো ডটএআই’-এর উদ্যোক্তা তাসফিয়া তাসবিন জানান, একেকটি পদের জন্য শত শত আবেদন জমা পড়লেও বাস্তব সমস্যা সমাধানের পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত হন হাতে গোনা কয়েকজন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক সময় বিদেশি কর্মী দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থ বাইরে চলে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে খাতের বিশেষজ্ঞদের মতামত যুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ইন্টার্নশিপ চালুর তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিসংখ্যানে শিক্ষিত বেকারের চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে স্নাতক পাস বেকার ছিলেন ৪ লাখ ৫ হাজার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজারে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার পুরুষ এবং ৩ লাখ ২৮ হাজার নারী। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে ১১৯ শতাংশ। জরিপে আরও দেখা যায়, মোট উচ্চশিক্ষিত বেকারের মধ্যে ৫ লাখ ৭১ হাজারই গ্রামে বসবাস করছেন, আর শহরে রয়েছেন ৩ লাখ ১৪ হাজার।
নিম্নস্তরের চাকরিতে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা
প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ এখন নিম্নস্তরের চাকরির দিকে ঝুঁকছেন। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১৬তম গ্রেডের ৩১২টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছিল ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯টি, যেখানে প্রতি পদের জন্য লড়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৯৫৬ জন। এছাড়া চাকরির ওয়েবসাইট বিডিজবসের ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রকাশিত প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ৫১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, কাজের সাথে দক্ষতার সামঞ্জস্য তৈরি না হলে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।