ছবির ক্যাপশন: লাখ টাকার বেসরকারি চাকরির মোহ ত্যাগ করে সরকারি চাকরিতে সফল শ্রীকান্ত নায়ক।
সাধারণ মানুষের সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে অনন্য নজির গড়লেন তেলঙ্গানার শ্রীকান্ত নায়ক। এক কৃষক পরিবারের সন্তান শ্রীকান্ত নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারের মোড়
তেলঙ্গানার এই মেধাবী ছাত্র দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফল করে আইআইআইটি বাসারে ভর্তির সুযোগ পান। ২০১৮ সালে তিনি ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কলেজের শেষ বর্ষেই ইনফোসিসের মতো নামী প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রস্তাব পান তিনি। তবে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে জনসেবার প্রতি ঝোঁক থাকায় তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ না করে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
একের পর এক সাফল্য
স্নাতক হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই শ্রীকান্ত জুনিয়র পঞ্চায়েত সেক্রেটারি, ভিআরও, জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং সাব-ইনস্পেক্টর পদে উত্তীর্ণ হয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। শুরুতে তিনি তেলঙ্গানা পুলিশে সাব-ইনস্পেক্টর হিসেবে যোগ দিলেও তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও বড়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি টিজিপিএসসি (TGPSC) গ্রুপ-১ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
সাফল্যের মন্ত্র
প্রস্তুতির সময় তিনি নিজের তৈরি নোট, ভিডিও ক্লাস এবং নিয়মিত উত্তর লেখার অনুশীলনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ডিএসপি পদে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শ্রীকান্তের মতে, অন্যের রুটিন অনুসরণ না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কৌশল তৈরি করা এবং লক্ষ্য পূরণে শতভাগ প্রচেষ্টা দেওয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এবিপি আনন্দ-এর সূত্র অনুযায়ী, তাঁর এই জীবনসংগ্রাম অনেকের কাছেই এখন অনুপ্রেরণার উৎস।