ছবির ক্যাপশন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
সরকারের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান
বর্তমান সরকারকে গণভোটের রায় ও প্রয়োজনীয় সংস্কার মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছে, তার মধ্যে অন্তত ২০টি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের জন্য জরুরি ছিল। তিনি সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন; সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে।’
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ
সভায় জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাম্প্রতিক নিয়োগ ও বিদায় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। এছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন তিনি।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দী ছিলেন। সিপাহিরা তাকে মুক্ত করেছিলেন এবং সাধারণ জনগণ সংহতি জানিয়েছিল। তিনি ইতিহাসের বিভিন্ন ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কেবল নিজের দলের কৃতিত্ব প্রচার না করে জেনারেল এম এ জি ওসমানী কিংবা আ স ম আবদুর রবের মতো ব্যক্তিদের ঐতিহাসিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। হীনম্মন্যতা পরিহার করে প্রকৃত ইতিহাস চর্চার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।