ছবির ক্যাপশন: ইসরায়েলে শাসক পরিবর্তন হলেই কী ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীতির পরিবর্তন আসবে? ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান এবং গাদি আইজেনকটের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আজকের পত্রিকার এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় অবস্থানে বড় কোনো মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও বাস্তবতা
সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের শিবির ৪৮টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আছে। তবে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আইজেনকটের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডানপন্থী আধিপত্য ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের নতুন নেসেটের ১২০ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জনই ডানপন্থী বা উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের অনুসারী। ফলে নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালেও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর মূলধারা ডানপন্থীদের দখলেই থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো নতুন সরকার ফিলিস্তিন প্রশ্নে বড় ধরনের নমনীয়তা দেখাতে চাইলে সংসদীয় ও রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হবে।
আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকলেও তার টিকে থাকার শর্ত হিসেবে আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে। এই বাধ্যবাধকতা থেকে হয়তো কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যেতে পারে, তবে তা ফিলিস্তিনিদের অধিকার বা দখলদারত্ব অবসানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এটি কেবল আগ্রাসনের ধরন বা ভাষা পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।