দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজিটাল খাতে মোট ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের উদীয়মান তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা এবং নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা।
ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ও নতুন সম্ভাবনা
বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ঘটছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আউটসোর্সিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার বিকাশের মাধ্যমে এই বিপুল কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যেই নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের সমন্বয় ঘটিয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ
ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের এই বড় লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। এজন্য যুবসমাজকে আধুনিক প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ করতে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র জোরদার করা হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারেও তরুণরা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে।
সরকারের এই রূপরেখা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্বিক তথ্যপ্রযুক্তি অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।