কৃষি শ্রমশক্তিতে শীর্ষে হলেও উৎপাদনশীলতায় দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ মানুষ কৃষিকাজে যুক্ত থাকলেও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে উৎপাদনশীলতায় তলানিতে রয়েছে দেশটি। (প্রতীকী ছবি)
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে কৃষি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সার্বিক কার্যকারিতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যম দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমশক্তি নিয়োজিত রয়েছে। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বিশাল এই শ্রমশক্তির বিপরীতে শ্রমের উৎপাদনশীলতার বিচারে এ অঞ্চলে দেশটির অবস্থান সবার নিচে।
শ্রমশক্তি ও উৎপাদনশীলতার বৈষম্য
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে কৃষি ঐতিহ্যগতভাবেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও সেই অনুপাতে উৎপাদন মিলছে না। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই খাতে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কাজের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হচ্ছে না, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক দক্ষতার ওপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।
চ্যালেঞ্জ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিতে উচ্চ শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার পেছনে সনাতন পদ্ধতির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপর্যাপ্ত ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং কৃষিপণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের জটিলতাও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
দৈনিক বণিক বার্তার এই তথ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে কৃষি খাতের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। উৎপাদনশীলতায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হতে হলে কৃষিতে প্রযুক্তিভিত্তিক পরিবর্তন, আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োগ এবং দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
কমেন্ট বক্স