ছবির ক্যাপশন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় লোকজন। রোববার সকাল সাতটা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ এবং আখাউড়া–আগরতলা সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর আলোচনার আশ্বাসে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ঢাকাগামী ও ঢাকামুক্ত বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে, যার মধ্যে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে এবং কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে আটকে থাকে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামী অন্যান্য ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পথচারীদের হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
সকাল সাতটা থেকে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন নারীদের সঙ্গে নিয়ে কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় জড়ো হন। অবরোধস্থলে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুইয়া, সাবেক চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন শের শাহ, জেলা আইন ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন পাঠান ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য শিপন ভুইয়া প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ‘বরিশল’ ইউনিয়ন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগরের একটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলা করার পরিকল্পনা চলছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে তাঁদের দাবি। বক্তারা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি গোপনের জন্য অভিযুক্ত করে জানান, সদর উপজেলা ভাঙার এই ষড়যন্ত্র তাঁরা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেবেন না। একই সঙ্গে বাসুদেবের ছয়টি গ্রামকে আবার বাসুদেবের সঙ্গে যুক্ত করে অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়ন ঘোষণার দাবি জানান তাঁরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তারেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। এই আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, আলোচনার আশ্বাসের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তামূলক দায়িত্ব পালন করে।