ছবির ক্যাপশন: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপকূল ও কেশম দ্বীপের ফাইল ছবি।
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের চলমান সামরিক তৎপরতার সঙ্গে এসব শব্দের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে নিশ্চিত করেননি। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের বিস্ফোরণের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো যোগসূত্র নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা
একই দিনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অবরোধ লঙ্ঘনের দায়ে একটি যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির পেছনের অংশে গুলি চালানো হয়।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথে চলাচলের সময় মাইনের আঘাতে তেলবাহী দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
অস্থির পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত ছিল মার্কিন প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। রয়টার্সের বরাতে পাওয়া এই তথ্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।