প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রকাশিত এক লেখায় পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর ৫৬ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের ২৮ বছরই কেটেছে প্রথম আলোতে। ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে সাপ্তাহিক 'একতা' দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি একতার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করার পর ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর শুরু হয় প্রথম আলোর পথচলা।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার মেলবন্ধন
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে সম্পাদক জানান, ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুববিরোধী ছাত্র ধর্মঘটে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। প্রায় ৩০ বছর তিনি সরাসরি ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতন দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতা জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
প্রথম আলোর আদর্শ ও লক্ষ্য
১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর যাত্রা শুরু করার পর থেকেই প্রথম আলো সুসাংবাদিকতা, সৃজনশীলতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নীতিতে অচল রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় লেখায়। পত্রিকাটি কোনো দলের মুখপত্র নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সম্প্রীতিময় এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রথম আলো কাজ করছে। নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের অবস্থান সর্বদা সোচ্চার রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন সম্পাদক মতিউর রহমান।