তিন প্রকল্পের জন্য কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা
মেট্রোরেল প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট অংশসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা এমআরটি লাইন ৫–এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে। ২০২৩–২০২৭ মেয়াদে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) কাঠামোগত চুক্তির আওতায় এসব প্রকল্পে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটির এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম) ও কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে।
কেক্সিম ও কোরিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিনে কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। এ সময় ইডিসিএফ তহবিলের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ঢাকা। জবাবে কেক্সিম কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এডিবি সমর্থিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) কার্যক্রমে কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করা হয়।
বিনিয়োগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতার ক্ষেত্র
কেআইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। ১০০ থেকে ২০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় আনা হয়। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল রূপান্তরকে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ইয়ংওনের আয়োজিত ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।