ছবির ক্যাপশন: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান।
ইরানের দেওয়া শর্তাবলি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শর্ত সামনে এনেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানান, এই শর্তগুলো পূরণ হলে অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। দৈনিক নয়া দিগন্ত ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে—গাজা ও লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা দেশটির সম্পদ ফেরত প্রদান এবং যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না—এমন নিশ্চয়তা চেয়েছে তেহরান।
কাতার ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, কাতারের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেছেন। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে এবং উভয় পক্ষই তা পর্যালোচনা করছে।
কাতারের মুখপাত্র আরও জানান, আলোচনার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে, যা আশার ইঙ্গিত দেয়। তবে সমঝোতা হবে নাকি সামরিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে বা জাহাজে যেকোনো ধরনের হামলা আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এ প্রচেষ্টাকে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের অবাধ অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও কাতার পুনরায় স্পষ্ট করেছে।