ছবির ক্যাপশন: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় সামরিক মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ ও পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে চলেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি নানা উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা ও দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘ মিশনে বাজেটের প্রভাব ও বাস্তব চিত্র
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ মিশনে সৈন্য সংখ্যা হ্রাস পাওয়া কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়। মূলত বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রধান প্রধান অর্থায়নকারী দেশের বাজেট হ্রাসের ফলে জাতিসংঘের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শান্তিরক্ষা বাজেট ১০ শতাংশের বেশি কমিয়ে ৫.১ বিলিয়ন ডলারে নামানো হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষীর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে এবং গত ১ নভেম্বর পশ্চিম সাহারার মতো ৩৫ বছরের পুরোনো মিশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বিশ্বব্যাপী ছাঁটাইয়ের মধ্যেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তাদের সুনাম ধরে রেখে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের তালিকায় ১ম থেকে ৪র্থ অবস্থানের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
দ্বিপক্ষীয় ও হাইব্রিড মিশনে নতুন উন্মোচন
জাতিসংঘের পাশাপাশি অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় মিশনেও বাংলাদেশি বাহিনীর চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সদস্য বিভিন্ন দেশের মিশনে নিয়োজিত। অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠনে (ওকেপি) কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট ৫,৭৬৮ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া হাইতিতে গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোর্সের (জিএসএফ) আওতায় ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে মোট ১,৪০০ জন সদস্য সংযোজনের কাজ চলছে, যার একটি অংশ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ
কাতার মিলিটারি কন্টিনজেন্টে (বিএমসি) বর্তমানে বাংলাদেশের জনবল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৭৬৭ জনে। কাতারের কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটিতে (কিউসিবিএস) নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬১ জনে। একই সঙ্গে কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে তিন বাহিনীর জন্য আরও ৫০০টি নতুন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে সৌদি আরবে নতুন মেরিটাইম অ্যালায়েন্সের আওতায় দুটি ফ্রিগেট ও এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারিসহ মোট ১,০০০ সদস্য মোতায়েন হতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতার সংকট নিয়ে করা নানা দাবি ভিত্তিহীন। বাস্তব চিত্র বলছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের এই বর্ধিত পরিধি বর্তমান সরকারের নতুন কূটনৈতিক সাফল্যেরই প্রমাণ।