আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ উপার্জনের ঐতিহ্যবাহী আইনি পথগুলো অবরুদ্ধ থাকায় উত্তর কোরিয়া তাদের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশের জন্য হ্যাকারদের ওপর নির্ভর করছে। ডিজিটাল বিশ্বের নিরাপত্তা গলদ কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টো চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তারা।
হ্যাকিংয়ের কৌশল ও অন্যান্য মাধ্যম
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, হ্যাকাররা বিশ্বখ্যাত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে বা ফিশিং আক্রমণের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার হাতিয়ে নেয়। এরপর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নিয়ে তা বিভিন্ন বেনামি ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়।
শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরিই নয়, বৈদেশিক মুদ্রা আনার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ার আইটি কর্মীরা পরিচয় গোপন করে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থায় দূরবর্তী কাজ (রিমোট জব) বাগিয়ে নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তথ্যে উঠে এসেছে। পরবর্তীতে এসব কাজের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সরাসরি বা কৌশলে নিজেদের দেশে পাঠায় তারা।
বৈশ্বিক উদ্বেগ ও নজরদারি বৃদ্ধি
ডিজিটাল সম্পদ চুরির এই অর্থ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলে যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্ধার এড়াতে তারা ক্রিপ্টো মিক্সিং সেবা ব্যবহার করে এসব অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ডিজিটাল চুরি ঠেকাতে এবং উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীদের প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক স্তরে পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে।