বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা ২৯° আংশিক মেঘলা
পরবর্তী যোহর ০০ ঘণ্টা০০ মিনিট০০ সেকেন্ড

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, ১১ জনের মৃত্যুর খবর

  • পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, ১১ জনের মৃত্যুর খবর ছবির ক্যাপশন: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের ছয়টি বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বেশ কিছু জেলার নিচু অঞ্চল আকস্মিক বন্যার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি জেলাগুলোতে অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান, রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যার আশঙ্কার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানি

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদ্রাসার আটজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, বিভিন্ন বয়সী আট শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে, যাদের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই এবং চারজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। বাকি পাঁচ শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড, পাঁচলাইশ ও রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ের মাটি ধসে বসতবাড়ির ওপর পড়ার ঘটনায় একজন নিহত ও অপর একজন আহত হন।

বন্যা পরিস্থিতি ও নদনদীর অবস্থা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে তিস্তা ও সুরমা নদী অববাহিকায়। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই টানা বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জসহ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অন্তত দশটি জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়া জেলাগুলোর প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনা খাবার ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ



Facebook WhatsApp Twitter
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার হুঁশিয়ারি আনসারাল্লাহর! আকাশসীমা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা | Yemen Saudi News বায়তুল মোকাররমে আবারও উত্তেজনা! খতিবকে ঘিরে জুমার পর বিক্ষোভ | Baitul Mukarram News Today ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর ওপর হামলা, ২০০ জনের বেশি হতাহত: ইয়াহিয়া সারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা থানায় বাসা লিজা গর্ভবতী সেজে বোরকার আড়ালে গাঁজা পাচারের চেষ্টা জামালপুর মাদক বিরোধী অভিযান ১৮৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ কলারোয়ায় পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুষ্টিয়া সীমান্তে ৪৭ বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদকসহ ১ জন আটক নারায়নগঞ্জ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ৮২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। সাতক্ষীরার বাইপাসে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় তানভীর আহম্মেদ শুভ নিহত ফুলের মত একটা জীবনের পরিসমাপ্তি | রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা রোডে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি নির্বাচন ৭ ধাপে, প্রথম ভোট ১২ নভেম্বর ইয়েমেনের আল-মোখা শহর হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে, সংকটে সরকারি বাহিনী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন ও শি জিনপিং