বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জহিরুল ইসলাম। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।
রিটের যুক্তি ও আবেদন
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গত সেপ্টেম্বরে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এর আগে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এটি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবীরা জানান, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রেস ব্রিফিং করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার’ কথা বলা হয়। রিটে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের বক্তব্য সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রাপ্ত মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার অধিকার এবং দুদকের ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রিট আবেদনে ওই দুই দিনের প্রেস ব্রিফিংকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেকোনো চলমান অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনাসহ পূর্বে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের আর্জি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টার দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। শুরুতে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।