সরকারি চাকরিতে রাষ্ট্রাচার (প্রোটোকল) ও পেশাগত শিষ্টাচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সম্প্রতি পদস্থ এক বিভাগীয় কমিশনারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন সংক্রান্ত একটি ঘটনা কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রোটোকল ও আচরণের নিয়মাবলী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে সরকারি প্রশাসনিক কাঠামোর এসব শিষ্টাচার পালনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে রাষ্ট্রাচার ও শিষ্টাচার কী?
প্রশাসন ও সরকারি চাকরিতে রাষ্ট্রাচার বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুন, যা উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে, অফিশিয়াল শিষ্টাচার হলো দাপ্তরিক কাজ এবং জ্যেষ্ঠ বা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পেশাগত শোভন আচরণ।
উচ্চপদস্থদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়মাবলী
রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর মতো শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। সাধারণত কুশল বিনিময় বা করমর্দনের ক্ষেত্রে শীর্ষ ব্যক্তির সম্মতির ওপর বিষয়গুলো নির্ভর করে। রাষ্ট্রাচারের নিয়ম অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ বা শীর্ষ ব্যক্তিত্ব নিজে থেকে হাত না বাড়ালে জুনিয়র বা অধীনস্থ কর্মকর্তার আগে থেকে হাত বাড়ানো শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে গণ্য করা হয়।
প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সচেতনতা
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চাকরির শুরু থেকেই রাষ্ট্রাচার ও পেশাগত শিষ্টাচারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিসিএস বা পাবলিক সার্ভিসের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোতে এসব প্রোটোকল বিষয়ে বিস্তারিত শেখানো হয়, যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শিষ্টাচার বজায় থাকে। তবে দাপ্তরিক কাজে কাজের সময় অসাবধানতাবশত কোনো ভুল হলে তা শুধরে নিয়ে প্রোটোকল পালনে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।