আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ফিটনেস বজায় রেখে পারফর্ম করে যাওয়া যেকোনো অ্যাথলেটের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। সময়ের সাথে ফর্ম ধরে রেখে বছরের পর বছর খেলা চালিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি রয়েছেন, যাঁদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিস্তার করেছিল দুই বা ততোধিক দশক জুড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ারের অনন্য রেকর্ডটি দখল করে আছেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্পিন অলরাউন্ডার উইলফ্রেড রোডস।
উইলফ্রেড রোডসের ৩০ বছরের অবিশ্বাস্য রেকর্ড
১৮৯৯ সালের ১ জুন টেস্ট অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন ইংল্যান্ডের উইলফ্রেড রোডস। ১৯ ৩০ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। অর্থাৎ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব ছিল ৩০ বছর ৩১৫ দিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের রেকর্ড। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এবং ১২৭টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ২,৩২৫ রান সংগ্রহ করেছেন।
আধুনিক ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের রাজত্ব
আধুনিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির যুগে এত দীর্ঘ সময় খেলা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়। তবে এই যুগে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ২০১৩ সালের নভেম্বরে বিদায় জানান তিনি। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছিল ২৪ বছর ১ দিন দীর্ঘ। এ সময়ে তিনি ২০০টি টেস্ট ও ৪৬৩টি ওডিআই খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি শতকসহ ৩৪,৩৫৭ রান সংগ্রহের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।
তালিকায় অন্য যেসব কিংবদন্তি
উইলফ্রেড রোডস ও শচীন টেন্ডুলকার ছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তালিকায় নাম রয়েছে আরও কয়েকজন বিখ্যাত ক্রিকেটারের। ইংল্যান্ডের ব্রায়ান ক্লোজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল ২৬ বছর ১৪০ দিনের। এছাড়া ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ওলি ২৫ বছর ১৩ দিন এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক অলরাউন্ডার সনাথ জয়াসুরিয়া প্রায় ২১ বছর ১৮৪ দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। বর্তমান যুগে ম্যাচের আধিক্য ও কঠোর ফিটনেস বজায় রাখার ভিড়ে এমন দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়া ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবেই গণ্য হয়।